কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী শিশু আশরাফুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পেছনের একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আশরাফুল উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি (কাঁঠালতলা) গ্রামের শাহিনের ছেলে। শাহিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শিশুটিকে ঘরের দোলনায় রেখে তার মা বাড়ির আঙিনায় কাজ করতে গেলে সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। সে সময় ‘বোরকা পরা তিন নারী’ শিশুটিকে নিয়ে গেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।
আজ সকালে শিশুটির দাদা বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে ভেতরে নাতির মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। শিশুটির দাদী অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ওই পুত্রবধূ বিভিন্ন সময় পরিবারটিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিতেন। দাদীর দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করে ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজের দিন থেকেই পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রশাসন শুরু থেকেই পরিবারের পাশে আছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন