কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর কলেজ ছাত্র তরিকুল ইসলাম ইমন হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। হোসেনপুরের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে শিক্ষার্থী ও বাজার ব্যবসায়ীদের অংশ গ্রহণ এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সোমবার (০৪ মে) সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতাল চৌরাস্তায় ৩ ঘন্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর আগে বিক্ষোভ মিছিলটি হোসেনপুর হাসপাতাল হাসপাতাল চৌরাস্তা থেকে পৌর এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সেখানে এসে অবস্থান করে।
সেখানে ইমন হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে বক্তব্য রাখেন, সাদভিন হাসান অভি, সৈকত মীর, তন্নি আক্তার, উর্মি আক্তার, শাহনুর ইসলাম, রিপন মীর প্রমুখ। এদিকে ৩ ঘন্টা ব্যাপি রাস্তা অবরোধের কারণে নান্দাইল-ঢাকা হোসেনপুরগামী জলসিড়ি পরিবহন যাত্রীসহ আটকে থাকায় দুর্ভোগের শিকার হন। পরে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এসে আন্দোলন কারীদের ইমন হত্যার ঘটনাটি যেহেতু পাশের ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানায় সংঘটিত হয়েছে। যেজন্য তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তায় আশ্বস্ত করার পর বিক্ষোভকারীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
গত ১৬ মার্চ রাত ১১ টায় হোসেনপুর বাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পূর্ব দ্বীপেশ্বর মীর পাড়া নিবাসী মাসুদ মীরের একমাত্র ছেলে ও হোসেনপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরিক্ষার্থী মো. তরিকুল ইসলাম ইমন নিখোঁজ হন। পরদিন ১৭ মার্চ সকালে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার পাঁচবাগ ইউনিয়ন ও হোসেনপুর সীমানা সংলগ্ন এলাকা ব্রহ্মপুত্র নদের খুরশিদ মহল সেতুর নীচে অজ্ঞাত লাশ ভাসতে দেখে পথচারী। পরে নিহতের পরিবার এটি নিখোঁজ হওয়া তরিকুল ইসলাম ইমনের লাশ বলে সনাক্ত করেন।
পরে পাগলা থানার পুলিশ এসে ৬ ঘন্টা অপেক্ষার পর ভৈরব নৌপুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল করে। ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এর পর নিহতের পিতা মাসুদ মীর হত্যার পর গুম করার অপরাধে পাগলা থানায় অজ্ঞাত নামাদের আসামি মামলা দায়ের করেন। মামলায় একজনকে সন্দেহ ভাজন গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যার ২১ দিন পার হলেও এখনো বাকি আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।
মন্তব্য করুন