কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পানান বিলের বোরো ধান ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকশ কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে করে ফেলায় এরকম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষকেরা প্রভাবশালী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের উদাসীনতা দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
চৈত্রের শেষ ও বৈশাখের শুরুতে কয়েক দিনের আগাম বর্ষায় কয়েকশ একর আবাদি বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এক ফসলী জমি হওয়ায় কৃষকদের ৬ মাসের কষ্ট, অর্থ ও এক বছরের খোরাক চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের হাহাকার ছাড়া আর কিচ্ছু করার নেই।
এমন পরিস্থিতিতে রবিবার(১৯ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ-১ (সদর- হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মিজাবে রহমত, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও, থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষি বিদ শেখ মোহাম্মদ মহসীন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
রবিবার বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন গাংগাটিয়া পানান বিল বোরো ধান চাষি হুমায়ুন কবির, সাদির মিয়া, মো. কবির মিয়া, সুরুজ আলী, জালাল উদ্দীন, উজ্জ্বল মিয়া, আকরাম হোসেন, সুলতান মিয়া, আরজু মিয়া, মজনু মিয়া, খালেক মিয়া, হেলাল মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, মেনু মিয়া, ইব্রাহিম খলিল, রিফাত মিয়া, মো. রফিকুল ইসলামসহ এরকম অন্তত ৫০ জন কৃষকদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা আহাজারি করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি রাখেন।
কৃষকরা এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পানান বিলের সাথে সংযোগ স্থাপন করা খাল গুলো পানি আসার পথ থাকলেও এ বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ বারই খালি খালে বাঁধ নির্মাণ করে ফিশারি দিয়ে প্রভালশালী মহল এর পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। যে জন্য এ জলাবদ্ধতা কৃষকদের একমাত্র ফসল বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
হোসেনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষি বিদ শেখ মোহাম্মদ মহসীন জানান, এ বিলে মূলতঃ হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়ন ও ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কৃষকদের জমি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হোসেনপুর উপজেলারই দুই শতাধিক কৃষক রয়েছে। বাকী আরও কয়েকশত কৃষক নান্দাইল ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের বিভাগ থেকে সাধারণত কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। সাধারণত প্রণোদনা দেওয়া হয়ে থাকে। আর আগামী আমন ধান চাষের সময় হয়ত: প্রণোদনার আওতায় আসতে পারে; যেহেতু এটা এক ফসলী জমি। সেখানে আমন আবাদের আওতায় পড়ে না। সেই হিসেবে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্তই রয়ে যাবে।
ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথে কথা বলে কী পদক্ষেপ নিতে হয় পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন