হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিং এ হাতপাখা ভর্তি রোগীদের শেষ ভরসা। জরুরি বিভাগ ও বহি: বিভাগের চিকিৎসক ও রোগীর বেলায় সে ব্যবস্থাও নেই।
সরেজমিনে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে দেখা যায় চিকিৎসক, নার্স, রোগী ও কর্মচারীদের বিদ্যুত বিহীন দুর্দশা।
হাসপাতালের কর্মরত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক বছরের ও অধিক সময় ধরে জেনারেটর নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। যদিও হাসপাতাল কতৃপক্ষের বক্তব্য তেল সংকটের কথা বলে জেনারেটর চালু রাখা যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন। ইদানিং সময়ে ইরান- ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে লোডশেডিং এর পরিমাণ অসহনীয় হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের লোডশেডিং এর পরিমাণ ও বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা ভর্তি রোগীদের বেলায়।
হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌর এলাকা ছাড়া ও জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা ও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৫৮ হাজার গ্রাহকদের জন্য পিকআপ আওয়ারে ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে চার থেকে পাঁচ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। যে জন্য লোডশেডিং মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে চলে গেছে। এ অবস্থায় হাসপাতালে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের একান্ত প্রয়োজন।
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে সোমবার ভর্তি রোগী ছিল ১০৭ জন। এ সময় ব্যথায় ভর্তি রোগী হোসেন মিয়া (৫০), কিডনি সমস্যায় আ. মান্নান (৬০), শ্বাসকষ্টের রোগী শিরিনা (৬০), আ. হেলিম (৭০), আ. সাত্তার (৬০), জালাল উদ্দিন (৬০), তমিজ উদ্দিন (৮০), হাসেন মিয়া(৭০), শহীদ মিয়া(৬০), আ. হাই (৭৫), রহিমা খাতুন (৬৫) সহ অনেকেই তীব্র লোডশেডিং এ তাদের কষ্টের কথা বলে এর সমাধান চান।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা( ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা. তানভীর হাসান জিকু জানান, তেলের সংকটের কারণে জেনারেটর চালু রাখা যাচ্ছে না বলে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন