কিশোরগঞ্জের নিকলীতে আবির হাসানকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মাহমুদুল হাসান রিয়ান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদা ইয়াসমিন আদালতে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সাড়ে ৬টার দিকে জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া গ্রাম থেকে মাহমুদুল হাসান রিয়ান ও তাঁর স্ত্রী কেয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত ৯ মার্চ বিকেলে উপজেলার সিংপুর ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হয় আবির হাসান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে তার বাবা মো. সিদ্দিক মিয়া নিকলী থানায় ১৩ মার্চ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের দীর্ঘ সময় পর গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পুলিশ ভাটিবরাটিয়া ও ডুবির মাঝে হংডাইল হাওরের একটি ভুট্টাখেত থেকে আবিরের হাড়গোড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করে। মরদেহে কোনো মাংস অবশিষ্ট ছিল না, তবে পরনের কাপড় দেখে তার বাবা পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ আবিরের কঙ্কাল ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কেয়ার সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে আবিরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই বছর আগে টিকটকের মাধ্যমে মাহমুদুলের সঙ্গে রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার আ. রশিদের মেয়ে কেয়া আক্তারের (১৮) পরিচয় হয়। পরে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কেয়াকে নাটোর থেকে নিকলীতে নিয়ে আসেন মাহমুদুল এবং ১৯ জানুয়ারি তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বন্ধু আবীর প্রায়ই মাহমুদুলের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। মাহমুদুলের স্ত্রীর সঙ্গে আবীরের সখ্য নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন তৈরি হয়।
মাহমুদুল ও আবীর একই গ্রামের বন্ধু হওয়ায় আবীরের সঙ্গে কেয়ার কথাবার্তা চলত। একপর্যায়ে আবীর ও কেয়ার মধ্যে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৮ মার্চ রাতে আবীর মাহমুদুলদের বাড়িতে গিয়ে কেয়া আক্তারের সঙ্গে একটি ছবি তুলে মাহমুদুলের মোবাইলে পাঠান। পরদিন ৯ মার্চ ভোরে মাহমুদুল চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। ওই দিন বিকেল থেকেই আবীর নিখোঁজ হন এবং তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, ৯ মার্চ বিকেলে মাহমুদুল হাসান রিয়ান ও আবির হাসান মিলে সিংপুর ইউনিয়নের ডুবি গ্রামের হংডাইল হাওরে শাহাবুদ্দিনের ভুট্টাখেতে সিগারেট খেতে যায়। আবির হাসানের হাতে সিগারেট তুলে দেয়ার পর একপর্যায়ে পিছন থেকে মোবাইল চার্জারের তার গলায় পেচিয়ে ধরে রিয়ান। দীর্ঘক্ষণ তার পেচিয়ে রাখলে আবির সেখানেই ঢলে পড়ে। পরে লাশ ফেলে বাড়িতে চলে যায়।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন মাহমুদুল হাসান রিয়ান। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন