কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুইটি আসনে বিএনপির দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তাঁরা দুজন হলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু এবং কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। উভয়েই নিজ নিজ এলাকায় পরিচিত ও প্রভাবশালী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনী মাঠে থাকার কারণে এই দুই আসনে ভোটের হিসাব জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয় অবস্থান দলীয় প্রার্থীদের ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু ২০০৬ সালের ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ থাকা অবস্থায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। ২০০৭ সাল ও ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে দল তাকে মনোনয়ন দেয়। নির্বাচনের দিন সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে তিনি লাঞ্চিত হন। দল থেকে এবার মনোনয়ন জুটেনি এই নেতার। এ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
আসনটিতে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন-বিক্ষোভ হয়েছে। নেতারা একে অন্যের বিষোদ্গার করেছেন। হয়েছে বাক্যুদ্ধ। প্রকাশ্য সমাবেশে বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সমালোচনা করছেন। এদিকে আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ হিলালী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। অনড় বিদ্রোহী এই নেতাকে কোন হুমকি-ধমকি নির্বাচনী লড়াই থেকে এখন পর্যন্ত নিবৃত্ত করতে পারেনি। বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে আন্দোলনের মুখে প্রার্থী বদল করে তৎকালীন এমপি মজিবুর রহমান মঞ্জুকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন ইকবাল। কিন্তু তিনি দলের আদর্শে অবিচল থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন।
ফলশ্রুতিতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ইকবালকে মনোনয়ন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বিএনপি’র প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু বাবার হাতে গড়া দল বিলুপ্ত করে সৈয়দ এহসানুল হুদা বিএনপিতে যোগ দিলে আবারও ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার হন ইকবাল। বিএনপি’র মনোনয়নে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন সৈয়দ এহসানুল হুদা।
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, আমি প্রার্থী হইনি। নিকলী বাজিতপুরের মানুষ আমাকে প্রার্থী করেছে। তাদের নিয়েই আমি রাজনৈতিক করেছি তাই তাদেরকে আমি ছেড়ে যেতে পারি না।
এদিকে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অস্টগ্রাম) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রহিম মোল্লাও তাঁর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।
মন্তব্য করুন