কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় তিন যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক মাদক কারবারির বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের মলাই ফকির বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মাদক কারবারির নাম সাহাবুদ্দিন (৫৫)। হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন— বড়চর গ্রামের মোবারক হোসেন (৩২), মো. হানিফ (৩০) এবং সংঘর্ষ থামাতে আসা নামাপাড়া গ্রামের ছন্দু মিয়া। আহতরা করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় রোববার (২৬ এপ্রিল) আহত মোবারক হোসেন করিমগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় সাহাবুদ্দিনের বাড়ি থেকে এক মাদকসেবী মাদক কিনে বের হওয়ার সময় মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় সচেতন তরুণরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাহাবুদ্দিন ও তার ছেলে বিজয়সহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে বাজারে মোবারকের দোকানে অতর্কিত হামলা চালান। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আটক মাদকসেবীকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
হামলায় মোবারক হোসেনের বাম হাত রক্তাক্ত জখম হয় এবং মো. হানিফের ডান হাতের আঙুল আংশিক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ছন্দু মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
আহত মোবারক হোসেন বলেন, “সাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী মাসখানেক আগেও মাদকের মামলায় জেল খেটে বের হয়েছেন। এলাকায় ফিরে তারা আবারও মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছেন। আমাদের এলাকার তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। আমরা এই অপরাধীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, আজ রবিবার এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, “মাদকের ব্যাপারে পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
মন্তব্য করুন