কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মেঘনার তীব্র ভাঙন থেকে নোয়াগাঁও গ্রাম ও হাওরের ‘অলওয়েদার সড়ক’ রক্ষায় ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের উদ্যোগে উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের নাজিরপুর সংলগ্ন নদীতে এ ড্রেজার কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত প্রায় এক দশক ধরে বর্ষা এলেই বাঙালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নদী ভাঙনের মুখে পড়ে। ভাঙন আতঙ্কে প্রতিবছর নিঃস্ব হতো বহু পরিবার। এই সমস্যা সমাধানের দাবিতে গত ১০ বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও সড়ক ভাঙন রোধে এই ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
স্থানীয়দের মতে, ভাঙনকবলিত এলাকার বিপরীত পাশে মেঘনা নদীতে নতুন চর জেগে ওঠায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর প্রভাবেই গত এক থেকে দেড় বছরে অষ্টগ্রাম-নোয়াগাঁও সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে বাঙ্গালপাড়া এলাকায় মেঘনার একটি অংশে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খননের কাজ চললেও সদ্য জেগে ওঠা চর অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নতুন বালুচরে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে নদীর গতিপথের এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবর্তন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো এবং ভাঙনের তীব্রতাও কমানো যেত।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান, হিরু, আমিন, তাসনুভা, রুপক, হান্নানসহ বেশ কয়েকজন বলেন, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড পর্যন্ত বিস্তৃত এই ‘অলওয়েদার সড়ক’ দিয়ে সারা বছর ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। কিন্তু সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে পুরো হাওর অঞ্চলের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। কর্মব্যস্ত মানুষ ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছিল জনজীবন।
শনিবার (২৩ মে) ড্রেজার কার্যক্রম শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুলসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহম্মেদ বলেন, “এই ড্রেজিং কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে নোয়াগাঁও গ্রাম, সড়ক ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এতে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল থাকার পাশাপাশি কৃষি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল জানান, বাঙালপাড়া বাজার, নোয়াগাঁও ও লাউরা এলাকার ভাঙনের সঙ্গে হাওরের তিন উপজেলার (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। অলওয়েদার সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। সংসদ সদস্যের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে এখন সড়ক ও গ্রাম রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি বলেন, “অষ্টগ্রামের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ চলছে এবং পুরো বিষয়টি প্রতিনিয়ত তদারকি করা হচ্ছে।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার বালুর বস্তা (জিওব্যাগ) ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। ফলে সড়ক ও গ্রামের ভাঙন পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
মন্তব্য করুন