কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মারধরের শিকার হয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আজ সোমবার (২২ জুন) উপজেলার বাইশকাহানিয়া ভাঙ্গিরচর এলাকার ডিএল দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. সাইজিদ হাসান (১৩)। সে ওই মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র (রোল নম্বর ৩৩)। সাইজিদ করিমগঞ্জ উপজেলার পিটুয়া পূর্বপাড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার শিক্ষক আবু বক্কর সোমবার ক্লাসে সাইজিদ হাসানকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। মারধরের একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির মামা মো. সোপেল অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষক আবু বক্করের নির্মম আঘাতের কারণেই সাইজিদ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমরা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. আল মোমেন জানান, চিকিৎসাধীন শিশুটির পিঠ ও কানে আঘাতের চিহ্ন (নীলাফোলা জখম) পাওয়া গেছে। এছাড়া শিশুটির মায়ের বরাত দিয়ে চিকিৎসক জানান, সাইজিদ আগে থেকেই মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু বক্করের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
করিমগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন