গাছ থেকে পেড়ে আনা পাকা কাঁঠাল বাবা-মাকে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে, ছেলের কিল-ঘুষিতে এক বৃদ্ধ বাবা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৭ জুন) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরীহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা বেগম বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় ছেলে আলম (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী রেখার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৭০) সদর উপজেলার বড় খাপন গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে কয়েক বছর আগে তিনি চৌধুরীহাটি গ্রামে একটি বাড়ি কিনে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আলম ও তার স্ত্রী রেখা বেগম পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে গাছ থেকে পেড়ে আনা পাকা কাঁঠাল বাবা-মাকে না দেওয়াকে কেন্দ্র আব্দুর রাজ্জাক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা বেগমের বড় ছেলে মো. আলম ও পুত্রবধূ রেখার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে আলম তাঁর বাবাকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিল-ঘুষি মেরে আলম একপর্যায়ে আব্দুর রাজ্জাকের গলাচেপে ধরে আলম। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা বেগমের।
নিহতের স্ত্রী শাহেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে আলমের আক্রমণের কারণেই আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর সময় নিহতের গাল ও কানে রক্তের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনার পরপরই আলম ও তার স্ত্রী রেখা বেগম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, আলম আগে থেকেই বলতো তোদের দুজনের যেকোনো একজনকে মেরে ফেলব।
নিহতের স্বজনরা জানান, আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে আলম বিবাহিত এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক। তার বড় মেয়ের বয়স প্রায় ১৫ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ৭ বছর। ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আলম ও তার স্ত্রী রেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন