কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে জোবায়েদ (২৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার ব্যবসায়িক অংশীদার ও মামাতো ভাই মো. রানাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত জোবায়েদ উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামের আলতাফ উদ্দিনের ছেলে এবং গ্রেপ্তার হওয়া রানা একই গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে। তারা দুজনে পারিবারিকভাবে মুরগির খামারের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামাতো ভাই হওয়ার সুবাদে জোবায়েদের সঙ্গে রানার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই সুবাদে রানার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের সঙ্গে জোবায়েদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাস দুয়েক আগে রানা বিষয়টি টের পাওয়ার পর তাদের সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তারা সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী জেসমিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রানা জানতে পারেন, তার স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি সেখানে গিয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরেন। এরপরই জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রানা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার (২৯ মে) রাতে রানা কৌশলে জোবায়েদকে পার্শ্ববর্তী শৈলজানী এলাকার পুরপুরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জোবায়েদকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যান রানা। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ জোবায়েদকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার জানান, ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শনিবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রাম থেকে রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তার রানার কাছ থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (৩১ মে) গ্রেপ্তারকৃত রানাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন