“দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের সর্বস্তরে সততা, ন্যায়নীতি ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা। তবে কেবল আইন প্রয়োগ করে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন।”
আজ বুধবার কিশোরগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দুদকের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান।
দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে, সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দুদক জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জের উদ্যোগে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ সম্মেলন কক্ষে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিদ্দিক উল্লাহ শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার পাঠ দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। একটি সৎ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”
নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা ও দেশপ্রেম ছড়িয়ে দেওয়ার উপায় নিয়ে কথা বলেন দুদক জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক মো. ইকবাল হোসেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘সততা স্টোর’ ও ‘সততা সংঘ’ গঠনের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সততার বীজ বুনে দেওয়া সম্ভব।
কর্মশালায় ‘সততা সংঘ’ ও ‘সততা স্টোর’ গঠনের লক্ষ্য এবং এতে শিক্ষক, প্রশাসন ও প্রতিরোধ কমিটির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ইসতেহাদ আহমেদ।
কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি ডা. মো. এহসানুল হক মুকুল ও সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাব উদ্দিন ভূইয়ার সঞ্চালনা ও বক্তব্যে কর্মশালাটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এতে জেলার প্রতিটি উপজেলার দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালা শেষে ছিল উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। এরপর অংশ নেওয়া সকল সদস্যের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
মন্তব্য করুন