মা থাকেন ঢাকায়, দিনরাত এক করে কাজ করেন পোশাক কারখানায়। বাবা মানসিক অসুস্থ। তাই পাঁচ বছরের ছোট্ট কন্যাসন্তানটির নিরাপদ আশ্রয় ছিল কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের রৌহা গ্রামে, নানির কোলে। কিন্তু সেই চেনা গ্রামেই যে ওত পেতে ছিল এমন এক নির্মমতা, তা কে জানত!
আম দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৭ মে) বেলা ১১টার দিকে করিমগঞ্জ থানার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা (সরকার বাড়ি) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর নানি বাদী হয়ে বুধবার (২৭ মে) রাতে প্রতিবেশী মো. অভির (৩০) বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত অভি একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। অভিযোগ দায়েরের পর বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতেই উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অভিকে আটক করে পুলিশ। পরে আজ শুক্রবার (২৯ মে) মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রুজু করা হয়।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে অন্য বাচ্চাদের মতো বাড়ির পাশে আম কুড়াতে বের হয়েছিল ওই শিশু। এ সময় প্রতিবেশী যুবক অভি তাকে আম দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে নিজের বৈঠকখানায় (বাংলা ঘরে) নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের ভেতর নিয়ে সে শিশুটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
ঠিক ওই সময় শিশুটির এক খেলার সাথি (মামাতো ভাই) ঘরের বাইরে থেকে বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করে। বাচ্চার চিৎকারে নানি ও আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। লোকজন ঘরে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করার আগেই অভিযুক্ত অভি দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির নানি বলেন, মা-বাবা কাছে না থাকায় নাতনিটাকে বুকে আগলে রাখতাম। আম দেওয়ার কথা বলে ওরে ঘরের ভেতর নিয়ে এমন সর্বনাশ করতে চাইল! আমরা গরিব মানুষ বলে কি বিচার পাব না? আমি এই পশুর কঠিন শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির বলেন, শুক্রবার (২৯ মে) ভুক্তভোগীর নানী বাদী মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন