কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ও নির্যাতনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রবাসীর আপন ছোট ভাই (ভুক্তভোগীর দেবর) ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার।
আজ শুক্রবার (২২ মে) ভোররাতে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ উপজেলার জামষাইট ও দড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া (১ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী প্রবাসীর ছোট ভাই মিজান এবং পার্শ্ববর্তী দড়িপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে ইমন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার তাঁর দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকতেন। গত ১৮ মে (সোমবার) সকালে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে তিনি বাসায় ফেরেন। স্বামীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলা শেষে রান্নাঘরে সন্তানদের জন্য খাবার প্রস্তুত করার সময় হঠাৎ পেছন থেকে দস্যুরা তাঁর মুখ চেপে ধরে। পরে তাঁর চোখ-মুখ বস্তা দিয়ে ঢেকে এবং দুই হাত বেঁধে ফেলা হয়। এ সময় শিউলী আক্তারকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরের আলমারি ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও একটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায় দস্যুরা।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) একটি মামলা করা হয়।
মামলা দায়েরের পর কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্তে নামে। আজ শুক্রবার ভোররাতে পার্শ্ববর্তী জামষাইট গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মিজানকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিজানের নিজ ঘরের চালের বস্তার ভেতর লুকিয়ে রাখা লুণ্ঠিত স্বর্ণ ও নগদ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইমন নামের আরও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে। বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রবাসীর আপন ছোট ভাই মিজান ও তাঁর সহযোগী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিজানের নিজের ঘর থেকেই চালের বস্তায় লুকানো লুণ্ঠিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।” গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন