দিন নেই, রাত নেই—ভনভন শব্দ আর হুল ফোটানো কামড় এখন কিশোরগঞ্জবাসীর নিত্যসঙ্গী। কয়েল জ্বালিয়ে কিংবা মশারি টাঙিয়ে ঘরের ভেতরে এক চিলতে স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষ, কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হচ্ছে না। মশার দাপটে ঘরের ভেতর যেমন টিকে থাকা দায়, বাইরের চিত্রটা আরও ভয়াবহ। বাসস্ট্যান্ড, পার্ক কিংবা চায়ের দোকান—সবখানেই মশার রাজত্ব।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও উঠছে নানা প্রশ্ন। একদিকে ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার আতঙ্ক, অন্যদিকে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনজীবন; সব মিলিয়ে মশা এখন পৌরবাসীর জন্য এক মূর্তমান বিভীষিকার নাম।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে মশক নিধনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। শহরের কয়েক লাখ বাসিন্দার সুরক্ষায় এই সামান্য বরাদ্দকে ‘হাস্যকর’ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা। সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, কয়েক লাখ মানুষের শহরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো মানে শহরবাসীর সাথে তামাশা করা।
সন্ধ্যার পর ঘরের দরজা-জানালা আটকে রেখেও নিস্তার মিলছে না; আর বাইরে বের হলে তো কথাই নেই। ড্রেনগুলোর বদ্ধ পানি আর যত্রতত্র জমে থাকা আবর্জনাই এই মশার প্রধান উৎস বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। ডেঙ্গু আতঙ্কে দিন কাটানো কিশোরগঞ্জবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন—কবে নাগাদ মশার এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে?
শহরের গাইটাল শ্রীধরখিলা এলাকার গৃহিণী ফাতেমা জোহরা বলেন, “পত্রিকায় পড়ি, টিভিতে দেখি পৌরসভা মশা মারতেছে, কিন্তু আমাদের এলাকায় কি তারা আসে না? আমার দুই ছেলেমেয়ে মশার কামড়ে পড়তে বসতে পারে না। ফগার মেশিন তো দূরে থাক, কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেও গত কয়েকমাসে নর্দমা পরিষ্কার করতে দেখিনি।”
একই এলাকার বাসিন্দা জুয়েল বলেন, পৌরসভা মশা মারার জন্য বাজেট করে, ওষুধ ছিটায়। কিন্তু আমাদের গাইটালে কি ফগার মেশিনের তেল ফুরাইয়া যায়?
শহরের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা খায়রুল বলেন, শহরের মশা মারতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ! এই টাকায় কি সারা বছর মশার ওষুধ কেনা সম্ভব? নাকি এটা শুধু লোকদেখানো বরাদ্দ?
গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সানজিদ বলেন, মশার যন্ত্রণায় ১০ মিনিটও স্থির হয়ে টেবিলে বসে থাকা যায় না। পায়ের নিচে কয়েল জ্বালিয়েও মশা তাড়ানো যাচ্ছে না। মশার কামড়ে যেমন পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছি না, তেমনি মনে সারাক্ষণ ডেঙ্গুর ভয় কাজ করে।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মুহাম্মদ আবিদুর রহমান ভূইয়া বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক নয়, সচেতন হোন। জ্বর হলে প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই পরীক্ষা (NS1) করান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না, এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। প্রচুর তরল খাবার খান এবং এডিস মশা নির্মূলে বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে দেবেন না। নিরাপদ থাকতে দিনে ও রাতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।
কিশোরগঞ্জের ডিডিএলজি ও পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, মশার ঔষধ রেগুলার দেয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন