টিউলিপ মানেই দূরের দেশ। শীতপ্রধান ইউরোপ, কিংবা নেদারল্যান্ডস—যেখানে বসন্ত এলেই রঙিন টিউলিপে ঢেকে যায় মাঠ আর বাগান। সেই পরিচিত দৃশ্য এবার আর দূরের নয়। শহরের মাঝেই, কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে ফুটে উঠেছে টিউলিপ ফুল। জেলার ইতিহাসে এই প্রথম এমন ফুলের বাগান গড়ে উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার উদ্যোগে এই টিউলিপ বাগান করা হয়েছে। সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফুল হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যায় স্থানীয় আবহাওয়ায় টিউলিপ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। শুরুতে সংশয় থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংশয় কেটে যায় রঙিন ফুলের হাসিতে।
এই উদ্যোগ শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর ভেতরে আছে এক ধরনের বার্তা—সরকারি স্থাপনাও হতে পারে নান্দনিক, হতে পারে মানুষের কাছে টানার জায়গা। ইট–পাথরের প্রশাসনিক কাঠামোর মাঝেও যে প্রকৃতি আপন করে ধরা দিতে পারে, টিউলিপ বাগান যেন সেটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সার্কিট হাউসের সবুজ লনের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে ফুটে থাকা লাল, হলুদ ও গোলাপি রঙের টিউলিপ পুরো পরিবেশকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। সরকারি কাজে আসা অতিথি, কর্মকর্তা ও স্থানীয় মানুষ ফুলের বাগানটি দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হক বলেন, আমরা তো ভাবছিলাম বিদেশের ফুল বিদেশেই থাকে। এখন নিজের শহরে এমন ফুল দেখতেছি, ভালোই লাগতেছে। বাচ্চা নিয়া আইছি শুধু ফুল দেখার জন্য।
ব্যবসায়ী আসাউজ্জামান বলেন, কিশোরগঞ্জে টিউলিপ ফুলের বাগান হবে, এটা ভাবাই যায়নি। সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ আগের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর হয়ে উঠেছে।
দর্শনার্থী রিতু বলেন, সরকারি স্থাপনায় এমন নান্দনিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ভালো লাগার জায়গা তৈরি করে। এটি প্রশংসার দাবি রাখে।
সার্কিট হাউসের মালি ওমর ফারুক বলেন, প্রথমবারের মতো টিউলিপ চাষ করেছি। শুরুতে ভাবতাম কি হবে, কি হবে না। কিন্তু ফুলগুলো ফুটতে শুরু করেছে দেখে খুব খুশি লাগছে। প্রতিদিন পানি দেওয়া, পরিচর্যা করা—সবই আনন্দের। দেখলে মনে হয় সার্কিট হাউসটা আরও প্রাণবন্ত হয়ে গেছে।
সার্কিট হাউসের নাজির মোঃ রাফিউল হক বলেন, কিশোরগঞ্জে প্রথমবারের মতো টিউলিপ ফুলের বাগান একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। জেলা প্রশাসকের পরিকল্পনা ও উদ্যোগে এটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, সরকারি স্থাপনাগুলো শুধু অফিসের জায়গা নয়; সেগুলো হতে পারে মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার জায়গা। যদি একটু যত্ন নেওয়া হয়, তাহলে এখান থেকে সৌন্দর্য ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
লিলি পরিবারের সদস্য টিউলিপ। আগে দক্ষিণ ইউরোপ থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত টিউলিপের বিস্তার ছিল। তবে, ১৭ শতকের পর থেকে এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায় এবং ব্যাপকভাবে চাষ শুরু হয়।
মন্তব্য করুন