কিশোরগঞ্জের ইটনায় মোশাররফ (১৯) হত্যা মামলার আসামিরা জামিন পেয়ে বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (০৯ মার্চ) রাত আটটায় কিশোরগঞ্জ বিএমইউজে কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ জানান নিহতের পরিবার ও বাদীপক্ষের লোকজন। আসামিদের অব্যাহত হুমকিতে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী হাবু মিয়া, নিহতের মা আনোয়ারা, চাচা জজ মিয়া, ভাই হিরন এবং চাচাতো ভাই মুজিবুর উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত বছরের ২৭ নভেম্বর সকালে ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের শোয়াইর এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মৃত আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে মোশাররফকে বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার ইটনা থানায় ২৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে (মামলা নং-০৮, তারিখ: ২৮-১১-২০২৫)।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—আব্দুল মুমিন, ফারুক মিয়া, রইছ উদ্দিন, সবুজ মিয়া, সুমন মিয়াসহ মোট ২৯ জন।
বাদী হাবু মিয়া অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এরই মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে ২৭ জন আসামি জামিন লাভ করেন। গত ৮ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলা জজ আদালত থেকে এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ১৬ জন পুনরায় জামিনে মুক্তি পান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, জামিনে মুক্ত হয়ে আসামিরা গ্রামে ফিরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও সাক্ষীদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। তাঁরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন যে, মামলা প্রত্যাহার না করলে আরও হত্যাকাণ্ড ঘটানো হবে এবং বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হবে। আসামিরা দম্ভোক্তি করে বলছেন, “কোর্ট এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে, টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে আবার জামিনে বের হয়ে আসব।”
নিহতের মা আনোয়ারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সন্তান হারিয়েছি, এখন আবার অন্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা আমাদের জানমাল ও বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।”
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল মুমিনসহ জামিনে মুক্ত কয়েকজন আসামির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান বলেন, আমি নতুন এসেছি। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখব।
মন্তব্য করুন