কিশোরগঞ্জে জমি ও নদী তীরের সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম (আশফাক)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে জেলা শহরের পুরান থানা এলাকা থেকে মাহতাব উদ্দিন নামে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে ধরে আনা হয়। শনিবার (২৫ এপ্রিল) তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
ওই নেতাকে কলার ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আটক মাহতাব উদ্দিন কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি।
জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে টিনপট্টি এলাকায় আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মাহতাব উদ্দিনকে ধরে নিয়ে আসেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “মাহতাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে টিনপট্টি এলাকায় নদীর জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করেছেন। এমনকি নদীর পাড়ের বেশ কিছু সরকারি গাছও কেটে ফেলেছেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে আমি সেখানে গেলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে জনতার সহায়তায় তাঁকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।”
বিএনপি নেতার দাবি, মাহতাব উদ্দিন একসময় জাতীয় পার্টি করলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভোল পাল্টে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তাঁর ও তাঁর ছেলেদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ গত ১৭ বছর ধরে অতিষ্ঠ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাঁর এক ছেলেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার পলাতক আসামি।
তবে জনসম্মুখে এভাবে আটকের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাহতাব উদ্দিনের চাচাতো ভাই টিটু মিয়া। তিনি বলেন, “তিনি (মাহতাব) একজন সম্মানিত ব্যক্তি। যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু প্রকাশ্যে কলার চেপে ধরে টেনে নিয়ে যাওয়াটা শোভন হয়নি।”
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান, জনতা মাহতাব উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ না দেয়ায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) তাঁকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন