ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট ও হকারদের উচ্ছেদের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে কিশোরগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ীরা। রোববার (৩০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারক লিপি দেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে শহরের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কটি আধাঘন্টা অবরোধ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। এতে যানচলাচলের বিঘ্ন ঘটে। এতে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে গৌরাঙ্গ বাজার আঠারবাড়ি কাচারী মোড়ে পাল ট্রেডার্স দোকানের সামনে কয়েকজন হকার তাদের ভ্যান গাড়ী নিয়ে আসে। পরে হকাররা তাদের মালামাল ভ্যান গাড়িতে রাখার সময় পাল ট্রেডার্সের মালিক শুভ কর ও কর্মচারী আলাউদ্দিন তাদের ভ্যান গাড়ী সরিয়ে নিতে বলে। এতে হকাররা ক্ষিপ্ত হয়ে পাল ট্রেডার্সের মালিক শুভ ও আলাউদ্দিনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এসময় তাকে বাঁচাতে আসলে আরও ৫- ৬জন ব্যবসায়ী আহত হয়। আহত ব্যবসায়ীরা কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক গৌরাঙ্গ বাজার, তেরীপট্টী, রথখলা এলাকার দোকানপাট ব্যবসায়ীরা বন্ধ ঘোষনা করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার (৩০ নভেম্বর) এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে হকারেরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ নিয়ে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেশ কয়েকজন হকার বলেন, আমাদের উচ্ছেদ করা মানে গরিবের পেটে লাথি দেয়া। আমাদের দোকানপাট উচ্ছেদ করা হলে কোথায় যাবো আমরা? আমরা যেনো ক্ষতিগ্রস্ত না হই এটাই আমাদের দাবি।
ব্যবসায়ীরা বলেন, শহরব্যাপী ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ফুটপাতের হকারদের সাথে সাধারণ ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীদের ঝগড়া বিবাদ এবং মারপিটের ঘটনা ঘটছে। যে কারণে শহরের আইন-শৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অবৈধভাবে দখলকৃত ফুটপাত ও রাস্তা-ঘাট থেকে জরুরী ভিত্তিতে অবৈধ দোকান পাট এবং ভ্যানগাড়ি উচ্ছেদ করার দাবি জানাচ্ছি।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, প্রশাসনকে বিষয়টি আমলে নিয়ে সমূহ সংঘাত এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিশোরগঞ্জ শহরের সকল ব্যবসায়ী সমিতি ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ীগণ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছে।
শহরের বাসিন্দা খাইরুল, জুয়েল, আহসান, রিমাসহ বেশ কয়েকজন বলেন, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও ফুটপাত এবং জনপদের উপর অবৈধ দোকানপাট এবং যত্রতত্র ভ্যানগাড়ি রাখার কারণে প্রতিনিয়তই চরম জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনার কারণে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হচ্ছে। অন্যদিকে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবি, সাধারণ ক্রেতারা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং রাষ্ট্রীয় জরুরী সেবা, যেমন এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরী বিদ্যুতের গাড়ি চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
জেলা শহরের বাসিন্দারা বলেন, শহরে যানজটের কারণে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। যানজট সৃষ্টির অনেক কারণের মধ্যে একটি হলো সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা। দিনের বেলায় যানজট পেরিয়ে গাইটাল এলাকা থেকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম হাসপাতালে যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। অথচ যানজট না থাকলে ওই পথে সময় লাগে ২০ মিনিট।
বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটা এখন কিশোরগঞ্জবাসীর সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ী সমিতিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। যেনো অচিরেই সড়কে ও ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে। এটাই ব্যবসায়ী সমিতির অনুরোধ।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মারপিটের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ দিলে মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ আছে। তাঁরা যেনো দোকানপাট দ্রুত খুলে আমরা বিষয়টি নিয়ে আইনগতভাবে এগোচ্ছি।
মন্তব্য করুন