মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ার প্রেক্ষাপটে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও সক্ষমতা আবারও আলোচনায় এসেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্রায় ১৯টি সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্থায়ী ঘাঁটি, বাকিগুলো অস্থায়ী বা ঘূর্ণায়মান উপস্থিতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এসব ঘাঁটিতে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন আছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজও প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। বাহরাইন–এ মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর রয়েছে। কাতার–এর আল উদেইদ বিমানঘাঁটি অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামরিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অভিযানে সমন্বয় করা হয়।
এ ছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত–এ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। কুয়েতে কয়েক হাজার এবং আমিরাতে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
সংঘাতপ্রবণ এলাকাতেও মার্কিন উপস্থিতি আছে। ইরাক ও সিরিয়া–এ সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সীমিতসংখ্যক সেনা রয়েছেন। পাশাপাশি জর্ডান–এও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুবিধা রয়েছে, যা আঞ্চলিক সমন্বয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া তুরস্ক–এর ইনসিরলিক বিমানঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে আনুমানিক ৪০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এই সামরিক ঘাঁটিগুলোই সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। তবে আঞ্চলিক অনেক দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনিচ্ছুক—এ কারণে কূটনৈতিক তৎপরতাও সমান্তরালভাবে চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন