এক সময় যে রোগগুলো মধ্যবয়সের পর দেখা যেত, এখন তা তরুণদের মধ্যেই বাড়ছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এমনকি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরাও। চিকিৎসকরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবই এর প্রধান কারণ।
জীবনধারার পরিবর্তনে বাড়ছে ঝুঁকি
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, অনিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম—এসবই আধুনিক জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। এসব অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রাশেদ মাহমুদ বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে ২৫–৩০ বছর বয়সী রোগীরাও উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের উপসর্গ নিয়ে আসছেন, যা কয়েক বছর আগেও বিরল ছিল।”
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
শুধু শারীরিক রোগই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। কাজের চাপ, বেকারত্ব, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক সমস্যাকে অবহেলা বা লুকিয়ে রাখার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নেই বললেই চলে
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ মানুষই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন না। ফলে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
বছরে অন্তত একবার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা
নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা
ওজন ও জীবনধারার ওপর নজর
সহজ অভ্যাসেই সুস্থ থাকা সম্ভব
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকার জন্য কঠোর নিয়ম নয়, বরং ধারাবাহিকতা জরুরি।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম
পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম
সুষম খাদ্যাভ্যাস
মানসিক চাপ কমাতে নিজের জন্য সময় রাখা
এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—আজকের অসচেতনতা ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই সময় থাকতেই জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি।
মন্তব্য করুন