স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজস্ব অবকাঠামো নির্মাণে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতায় আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ (শাটডাউন) করে দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে নানা অনিয়ম ও সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে (রোববার) থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে আসছিলেন তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ তিন দিনের সময় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। জেলা শহরের পূর্ব পাশে গাছবাজার এলাকায় কেনা জমিতে অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসায় আলোচনা ব্যর্থ হয়। এরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়ে প্রধান ফটকে অবস্থান নেন।
এদিকে, স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নসহ একাধিক দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান ৫০ জন শিক্ষার্থী। সাবেক শিক্ষার্থী ও আইনজীবী তাশফিক ইসলাম রাহিন এই নোটিশটি পাঠান। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ২ বছরের মধ্যে নিজস্ব জমিতে স্থায়ী স্থাপনা করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে ১৪ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস না হওয়ায় ইউজিসির তালিকায় নিম্নমানে অবস্থান করছে। সনদ নিয়ে পেশাগত জীবনে ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা রয়েছে। প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাবর্তন আয়োজন করা হয়নি। বিভিন্ন বিভাগে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের তীব্র অভাব এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের স্থবিরতা। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদে চাকরি প্রদান। ট্রাস্টের তহবিল ভেঙে অনৈতিকভাবে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ।
সাবেক শিক্ষার্থী এবং আইনজীবী খন্দকার শাফায়েত উল্লাহ আশিক বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। আশাকরি নোটিশে উল্লেখিত বিষয়গুলো আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। অন্যথায় আমরা আদালতের দ্বারস্থ হবো। আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক এবং ন্যায্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর আর এসব অবহেলা অনিয়ম মেনে নেয়া যায় না।
বিবিএ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ইফতি বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস আমাদের ন্যায্য দাবি। অথরিটি অতিদ্রুত এ দাবি পূরণ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনুক। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আমরা সাবেক শিক্ষার্থীরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার চৌধুরী খায়রুল হাসান বলেন, আমি এখন ক্যাম্পাসের বাইরে আছি। শাটডাউন বিষয়ে কিছু জানি না। আমার দফতরে লিগ্যাল নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা উধ্বর্তন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন তীব্র একাডেমিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন