সংসারের চাকা সচল রাখতে এক হাতে ধরেছিলেন ভ্যানের হাতল, অন্য হাতে সামলেছেন তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে যখন অথই সাগরে পড়েছিলেন, তখনো ভেঙে পড়েননি কিশোরগঞ্জের শিউলি বেগম। সমাজে যখন অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে ভাগ্যের পরিহাস মেনে নেন, সেখানে শিউলি বেগম হয়ে উঠেছেন এক অনন্য সাহসের প্রতীক। প্রতিদিন ভ্যানে করে সবজি ও ফল বিক্রি করে চালাচ্ছিলেন জীবনসংগ্রাম। কিন্তু হঠাৎ এক নির্মম সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন এই লড়াকু নারী; থমকে গেছে তাঁর বেঁচে থাকার চাকা।
তবে এই কঠিন সময়ে শিউলি বেগমের একাকী লড়াইয়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
আজ সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন শিউলি বেগমের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকার জরুরি আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) শিউলি বেগমকে আরও ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ বলেন, আপাতত জরুরি খরচের জন্য এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। শিউলি বেগম সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাঁর স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শিউলি বেগম বলেন, অনেক নারীই স্বামী বা আত্মীয়-স্বজন থাকার পরেও অভাব-অনটনে পড়েন। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আমি চাই তারা ভেঙে না পড়ে সাহস করে রাস্তায় বের হোক। একটা পুরুষ মানুষ যেটা করতে পারে না, আল্লাহ আমাকে দিয়ে সেটাই করাচ্ছেন।
ভৈরব এলাকার বাসিন্দা শিউলি বেগম বর্তমানে কিশোরগঞ্জ সদরের মারিয়া ইউনিয়নে ভাড়ায় থাকেন। প্রতিদিন ভ্যান গাড়ির মেরামত খরচ ও নানা টানাপোড়েনের মাঝেও সবজি-ফল বিক্রি করে তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
শিউলি বেগমের এই সাহসিকতার প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, শিউলি বেগম আমাদের সমাজের এক অনন্য এবং সাহসী নারী, যিনি সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজের পরিবারের দায়িত্ব একা কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তাঁর এই আকস্মিক বিপদে জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে তাঁর পাশে রয়েছে। সমাজে যেকোনো লড়াকু মানুষের সংকটে জেলা প্রশাসন এভাবেই সবসময় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে।
মন্তব্য করুন