বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত রয়েছে। প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার না থাকায় দেশটি থেকে মাদকসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্যের চালান ঢুকছে বাংলাদেশে।
এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে থাকে।
এই পরিস্থিতির সমাধানে এগিয়ে এসেছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। রাডার ও থার্মাল (তাপ সংবেদনশীল) প্রযুক্তির সমন্বয়ে তারা একটি স্মার্ট বর্ডার সিকিউরিটি সিস্টেমের প্রস্তাব দিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা একটি প্রকল্পও উদ্ভাবন করেছে।
খুদে এই বিজ্ঞানীরা করিমগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
তাদের একজন অনাবিল তৃষাদ। সে জানায়, তাদের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় ভারতের কেউ প্রবেশ করলেই সেন্সর সিগন্যাল দেবে এবং এলার্ম বেজে উঠবে। একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে যাবে। এটি একটি ডেমো মডেল; যদি বাস্তবায়ন হয় সীমানা সুরক্ষিত থাকবে।’
তাদের মতো করিমগঞ্জ উপজেলার ১৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিকম্প ঝুঁকি, পানি ও বিদ্যুৎ–সংকট নিরসনে প্রযুক্তিনির্ভর ভিন্ন ভিন্ন অন্তত ৩০টি প্রকল্প উদ্ভাবন করেছে।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় এসব উদ্ভাবনী প্রকল্প দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হন।
মেলায় ঝাউতলা আনোয়ারীয়া ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা মিম ও তার দল ‘অটোমেটিক স্ট্রিট লাইট’ ও ‘গ্রিন হাউস’ প্রকল্প প্রদর্শন করেন।
ভাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী
আল আদল হোসেন রাব্বানী ও তার দলের প্রকল্প ছিল ‘ডিজিটাল ডাস্টবিন’ ও খরচ বিহীন ‘জলবিদ্যুৎ’ উৎপাদন।
নানশ্রী স্কুল এন্ড কলেজের (মাধ্যমিক বিভাগ)
নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী সৈয়দা মাহমুদা ইসরাত ঐশী ও তার দল উপস্থাপন করে পানি শোধনের ‘ইকো ফিল্টার’ ও ‘স্মার্ট ভূমিকম্প এলার্ম সিস্টেম’ প্রকল্প।
করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে দুই দিনব্যাপী ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়। উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল-আমিন কবিরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় উপজেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করে। এতে উপজেলার ১৩টি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা অংশগ্রহণ করে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত চলবে এ মেলা।
মেলার প্রাঙ্গণে ঝাউতলা আনোয়ারীয়া ফাজিল মাদ্রাসার আইসিটি বিভাগের শিক্ষক তরিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগ নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানে রয়েছে, সেখানেও ল্যাব ও শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে। এ ধরনের বিজ্ঞান মেলা বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা বলেন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতেই সরকার এ মেলার আয়োজন করেছে। মেধার বিকাশে বিজ্ঞানের বিকল্প নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের এসব উদ্ভাবন ভবিষ্যতে প্রযুক্তি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন