বিয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হলো কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল গ্রামের একটি পরিবার। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ওই বাড়িটি। হামলায় আহত হয়েছেন কয়েকজন এবং অভিযোগ উঠেছে, এ সময় নগদ অর্থ ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কর্শাকড়িয়াইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সেলিম খান স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদের একজন নেতা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সেলিম খানের বাড়িতে বৌভাত অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায় ৩০০ অতিথির সমাগম হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর বাড়ির সামনে রাখা কিছু মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে অনুরোধ জানান বাড়ির লোকজন। এই অনুরোধই কাল হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় কয়েক যুবকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এরপরই ওই যুবকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেলিম খানের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলকারীরা একে একে বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় বাড়িতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ভাঙচুরের পাশাপাশি তারা আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের অলংকার লুট করে নিয়ে গেছে।
হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সেলিম খানের বোন মদিনা বেগম বলেন, ‘সামান্য মোটরসাইকেল সরানো নিয়ে তর্ক, আর তার জেরে এমন তান্ডব! তারা শুধু ভাঙচুরই করেনি, সব লুট করে নিয়ে গেছে।’
তবে বিষয়টিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখছেন ভুক্তভোগী সেলিম খান। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মোটরসাইকেল সরানোটা শুধু একটি অজুহাত মাত্র। আমি এলাকায় মাদকের বিস্তার ও ব্যবসার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে টার্গেট করে এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে বিরোধের কথা শুনেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করার চিহ্ন পেয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন