কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সভার মঞ্চ থেকে ঘোষিত নানা প্রতিশ্রুতি সাধারণ জনগণের মনে সঞ্চারিত করেছে এক নতুন আশা। তারেক রহমানের ভাষণে যে প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা উঠে এসেছে, তা বিশেষ করে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে মানুষের চিন্তা ও প্রত্যাশাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তবে, নতুন এই পদক্ষেপগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র—যেখানে একদল মানুষের চোখে এ যেন নতুন জীবনের সোপান, অন্যদিকে কিছু মানুষ বাস্তবায়নের প্রশ্নে রয়েছেন সন্দিহান।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গাইটাল শ্রীধরখিলা এলাকার বাসিন্দা রুমানা আক্তার (৪০) বলেন, “যদি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান হয়, তবে আমাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আসবে। অনেক নারী আছেন যারা নিজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা চাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একটি ভাল সুযোগ হতে পারে।” তবে তিনি আরও বলেন, “এই কার্ডগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটা দেখতে হবে।”
মিঠামইন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক হাসান আলী (৪২) কৃষি কার্ড নিয়ে বলেন, “যদি এই কার্ডের মাধ্যমে সঠিকভাবে সার, বীজ ও কীটনাশক পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলনের পরিমাণ বাড়বে। সরকার যদি সঠিকভাবে ঋণ ও বীমা সুবিধাও দিতে পারে, তাহলে আমাদের কাজ সহজ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের প্রতিশ্রুতি শুনতে ভালো লাগলেও, বাস্তবে কি হবে তা জানি না। আগে তো দেখেছি, সরকারের অনেক প্রকল্পের সুবিধা সঠিকভাবে গরিব কৃষকদের কাছে পৌঁছায় না। এটা যদি প্রকৃতপক্ষে আমাদের কাজে আসে, তবে ভালো, কিন্তু তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।”
তারেক রহমানের যুব কর্মসংস্থান ও নতুন শিল্প গড়ার প্রতিশ্রুতিকে যুব সমাজ আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বেকারত্ব কমবে এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চায়, যাতে দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা আরও দৃঢ় হয়।
ভৈরব পৌর শহরের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন, আমি মনে করি তারেক রহমানের যুব কর্মসংস্থান ও নতুন শিল্প গড়ার পরিকল্পনা আশার কথা শোনায়। যদি সত্যিই নতুন শিল্প ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক বেকার যুবক উপকৃত হবে। তবে একই সঙ্গে সন্দেহও আছে—আগেও অনেক প্রতিশ্রুতি শোনা গেছে, বাস্তবায়ন কম হয়েছে। তাই আমি আশাবাদী, কিন্তু চূড়ান্তভাবে বিশ্বাস করতে চাই বাস্তব কাজ ও ফলাফল দেখার।
তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিতে খাল খনন, সড়ক সংস্কার, হাসপাতালের উন্নয়ন এবং বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতিকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। করিমগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা পারভেজ বলে, “জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা আর হাসপাতালে ওষুধের অভাবের কারণে আমাদের দৈনন্দিন জীবন কষ্টের। খাল খনন ও সড়ক সংস্কার হলে সুবিধা হবে।” একই এলাকার বাসিন্দা এম এ হান্নান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বেশি আশা রাখছি না, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে গেলে সময় লাগবে।”
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বাসিন্দা সানজিদ, আসাদ, মুর্শেদ, আরিফ, মুরাদসহ বেশ কয়েকজন যুবক প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পরিকল্পনাকে ইতিবাচক দেখছেন, “দক্ষ হয়ে বিদেশে কাজ করার সুযোগ পাওয়া ভালো হবে।”
মন্তব্য করুন