বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী মাসের ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু গত দেড় দশক ধরে জনগণ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এই সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে তিনি জনসভায় উপস্থিত হন এবং জেলার ছয়টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে প্রায় দেড় হাজার মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জনগণ আবার ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। তাই ভোট দেওয়ার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু কেন্দ্রে গেলেই দায়িত্ব শেষ নয়; ভোরবেলায় উঠে ফজরের নামাজ আদায় করে ভোট দিতে যেতে হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি পক্ষ নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করছে। যারা এসব কাজে জড়িত, তাদের পরিচয় মানুষের অজানা নয়। তিনি আরও বলেন, যারা আজ এই ষড়যন্ত্র করছে, তারাই ১৯৭১ সালেও দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল। সেই ষড়যন্ত্র জনগণ বহু আগেই বুঝে ফেলেছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দেশ পরিচালনার দায়িত্ব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কে দেশকে এগিয়ে নেবে আর কে পিছিয়ে দেবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জনগণের হাতেই। দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ, আর তাদের সিদ্ধান্তেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে সিলেট যেতে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লাগলেও বর্তমানে সেখানে যেতে প্রায় দশ ঘণ্টা সময় লাগে। সড়ক যোগাযোগের অবনতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং খাল খননের অভাবসহ নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারণে সামনে অনেক কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, যারা একাত্তরে দেশের বিরোধিতা করেছিল এবং গত ১৫ বছরে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপিই একমাত্র দল—আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর ঘোষণাও দেন, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। এছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেমদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, ভোটকে ঘিরে নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং প্রবাসী ভোট নিয়েও একটি পক্ষ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। তাই সবাইকে আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি ফজরের নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
জনসভায় তিনি ছয়জন প্রার্থীকে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলেই ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইসরাইল মিয়া।
মন্তব্য করুন