সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক বর্তমানে ৮৭ বছর বয়সের একজন বয়োবৃদ্ধ এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি। বয়সের ভারে ডিমেনসিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে নিজে একাকি চলাফেরা করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের মনোনয়নপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা শহরের স্টেশন রোডে অবস্থিত হোটেল শেরাটনের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে করে তিনি এ মন্তব্য করেন। আর তাই ওসমান ফারুকের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল করে তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।
জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা বলেন, ৩ নভেম্বর মনোনয়ন ঘোষণা হয়। ৬ নভেম্বর ওসমান ফারুক আমেরিকা থেকে আসছেন। ১২ তারিখ উনি গ্রামের বাড়ি করিমগঞ্জে আসেন। ১৮ তারিখ রাতে উনি আমার মোবাইল ফোনে কল করে কথা বলেন। এর আগে উনি কখনো আমাকে ফোন করেনি এবং আমিও উনাকে ফোন করিনি। ২৭ সেকেন্ড কথা বলার পর ওসমান ফারুক আমাকে বলেন, ” আমিতো বাড়িতে গেছিলাম। আমি গতকাল আসছি।” আমি বললাম, “না স্যার, আপনি গতকাল আসেন নাই। আপনি ৪ দিন আগে বাড়ি থেকে ঢাকা আসছেন।” ওসমান ফারুকের সাথে এই কথা বলার পর আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে উনার স্মরণ শক্তি অনেক দুর্বল।
তিনি বলেন, ৫ই আগস্ট অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে বাড়ীতে এসে নিজের শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে নির্বাচন করার কোন ইচ্ছে নেই বলে অন্যদেরকে নির্বাচন করার জন্য উৎসাহিত করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। উক্ত সময়ে কিছুদিন দেশে থাকলেও বিএনপি’র জাতীয় নেতৃত্ব, জেলা নেতৃত্ব এবং উপজেলা নেতৃবৃন্দ কারো সঙ্গে কোনরূপ যোগাযোগ রক্ষা করেননি, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে রাজনৈতিক কোন কর্মকান্ডে তাঁর কোন অংশ গ্রহন পরিলক্ষিত হয়নি। বরং কথিত আছে যে, উৎসাহি নেতা-কর্মীদের সাথে এনসিপির পক্ষে কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এক এগারোর পট-পরিবর্তনের পর প্রভাবশালী ষড়যন্ত্রকারী সংস্কারবাদীদের প্রতিরোধ করেছি। ঐ সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার টেলিফোনের নির্দেশনাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। ২০০৮ সালে যখন ড. এম ওসমান ফারুকসহ অন্যরা নির্বাচন করা থেকে বিরত থেকেছেন। কারণ তিনি সংস্কারবাদী ছিলো। তখন আমিই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তৃণমূলের বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছি।
এসব বিষয়ে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক জানান, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তার শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে আশা করছেন। আগামিকাল এলাকায় আসার কথা রয়েছে তার।
সংবাদ সম্মেলনে করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান শফি এবং করিমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
মন্তব্য করুন