কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। উত্তেজিত সংঘর্ষকারীরা ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম দখল করে স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় ঢাকা-সিলেট-চট্রগ্রাম-ময়মনসিংহ রেলপথে ৫ঘন্টা রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বুধবার (০৪ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভৈরব রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের অন্তত ৬টি ট্রেন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। আটকে পড়া ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেসের দুটি ট্রেন, পারাবত এক্সপ্রেস, এগারসিন্ধুর প্রভাতী, তিতাস কমিউটার এবং কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস।
আহতদের মধ্যে ভৈরব থানার এসআই সাইফুল ইসলাম এবং রেলওয়ে পুলিশের সদস্য মুছা গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যান্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে সংঘর্ষকারীদের ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের আমলাপাড়া ও জগন্নাথপুর এলাকার যুবকদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ বলেন, ফুটবল খেলার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষকারীরা রেলস্টেশনকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ কথা বলতে রাজি হননি।
মন্তব্য করুন