কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে বিএনপি ও যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বনগ্রাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০-১২ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া আসনের সংসদ সদস্য সহশ্রাম-ধুলাদিয়া ইউনিয়নে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠান শেষে বনগ্রাম বাজারে যাত্রাবিরতি করেন। বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পিন্টু এবং স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যদের মধ্যে মসজিদের মাইক দিয়ে লোক জড়ো করাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি হয়। তখন বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আনোয়ারের সাথেও পিন্টুর বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রসদৃশ টেঁটা ও বল্লম ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশের হস্তক্ষেপে দু’পক্ষকেই শান্ত থাকার অনুরোধ করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে জানান, কেউ আহত হয়নি। হালকা হাতাহাতি হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক পিন্টু জানান, সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নে স্থানীয় প্রোগ্রাম শেষে সংসদ সদস্য এডভোকেট জালাল উদ্দীন বনগ্রাম বাজারে একটি রাস্তা পরিদর্শন করতে যাওয়ার কথা। এসময় স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের সাথে কথাকাটাকাটির সময় যুবদল নেতা আনোয়ার এসে তর্কে জড়ান। এর পরেই অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটনাটি ঘটে। তবে গুরুতর কেউ আহত হয়নি কেউ। এবং বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন