শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে কার্যক্রম চালানো অন্তর্বর্তী সরকার শেষে দেশে আবারও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠন করা হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিশাল ব্যালট জয় অর্জন করেছে। ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। যদিও দুটি আসনের ফল ঘোষণা হয়নি এবং একটিতে নির্বাচন হয়নি।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর আজ প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, বাংলাদেশের এক নতুন নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দায়িত্ব গঠন হয়েছে।
বিগত সময়টিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার বিশাল আন্দোলনের ফলে শাসক দল পতিত হয় এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে দায়িত্ব পরিচালিত হচ্ছিল। এর মধ্যেই দেড় বছর পার হয়ে আবারও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় স্বীকৃতভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো।
এদিনের শপথ অনুষ্ঠানেও সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিষয় নিয়ে কিছু জটিলতা লক্ষ্য করা গেছে; বিএনপি-র নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ করেননি বলে এক পর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য বিভ্রান্তি দেখা দেয়। তবে জোগাড় হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি-র সংসদ সদস্যরা উভয় পরিষদে শপথ গ্রহণ করেন।
এরপর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ সম্পন্ন করেন, যার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব কার্যত শেষ হয়ে গেল এবং নতুন নির্বাচিত সরকার দেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করল।
মন্তব্য করুন